ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সভ্যতার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন তিনি

যিনি তার ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমাদের সভ্যতার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন, তিনি হলেন টমাস আলভা এডিসন

ভুল আমাদের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। হতে পারে তা প্রেম, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তায়, যুদ্ধে কিংবা রাজনীতিতে। সব ভুলই একেক রকমের প্রভাবশালী উপসর্গ। প্রেম ও বন্ধুত্ব অনেক সময় কারণে-অকারণে এমন অবস্থা তৈরি করে তখন এক নিমিষেই এমন এক বিষাদময় অবস্থা তৈরি হয়, তখন মনে হয়—
“হাসি-খুশির হাজারো দিন, একটি দিনেই নষ্ট
তুমিও পাও আমিও পাই, প্রতিদিনেই কষ্ট।”
প্রেমের একটি ভুলে সারাজীবনের জন্য অনেক সময় প্রেমটা উবে যায়। বুঝে না বুঝে কথা বলার কারণে অনেক সময় বন্ধুত্ব/আত্মীয়তা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। যুদ্ধের একটি ভুলে তাৎক্ষণিকভাবে হয়ে যেতে পারে পরাজয়। রাজনীতির ক্ষেত্রে কোনো কেো ভুল সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। আর সেই ভুলের মাত্রা যদি সেই রাজনৈতিক দলটি বারংবার ঘটাতে থাকে, কড়ায়-গণ্ডায় তার মাশুল দিতে হয় সেই রাজনৈতিক দলটির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের। এমনকি আমাদের মতো সাধারণ মানুষদেরকেও—যারা কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নই। কেননা ভারসাম্যহীন রাজনীতি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের চরম আধিপত্যবাদিতার পথ সুগম করে দিয়েই ক্ষান্ত হয় না, এতে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মকভাবে বিপদের মধ্যে পড়ার আশঙ্কাও অনেকাংশে বেড়ে যায়।
মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত পরিবার, সমাজ এমনকি কর্মজীবনকেও মারাত্মক অনিশ্চয়তার মধ্যে ধাবিত করতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো ভুল করার সময় কক্ষনোই কোনো ভুলকে ভুল বলে মনে হয় না। বরং সেই ভুলকে অনিবার্য করণীয় বলে মনে হয়। ভুলকে সঠিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জোরালো যুক্তি ও আবেগও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি করে ফেলি। প্রবল একটি আকর্ষণও এ সময় কাজ করে। তবে ভুলটি ভাঙে তা ঘটে যাওয়ার পর থেকে। তখন অনেক সময়ই আর কিচ্ছু করার থাকে না। আমার ধারণা আমরা সকলেই কোনো না কোনো ভুল প্রতিদিনই করছি এবং তার মাশুলও কড়ায়গণ্ডায় দিয়ে যাচ্ছি।
ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার মানসিকতা খুব কম সংখ্যক মানুষের আছে। তবে যারা কর্মের মাধ্যমে বিখ্যাত হয়েছেন তারা কিন্তু প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কিছু থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই বিখ্যাত হয়েছেন। আমরা আজ এমন একজন মানুষ সম্পর্কে জানব, যিনি তার ভুলের মধ্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমাদের সভ্যতার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তিনি হলেন টমাস আলভা এডিসন।
টমাস আলভা এডিসন বাল্বের ফিলামেন্ট খোঁজার জন্যে দুই হাজার উপাদানের উপরে পরীক্ষা করলেন। যখন কোনো উপাদানই সন্তোষজনকভাবে কাজ করল না, তখন তার সহযোগী অভিযোগ করে বলে উঠলেন, “আমাদের পুরো কাজটাই মাটি হয়ে গেল, আমরা কিছুই বের করতে পারলাম না।”
এডিসন খুব সংশয়হীন কণ্ঠে বললেন, “আমরা অনেক দূর এগিয়েছি এবং আমরা অনেক কিছু শিখেছিও। আমরা এখন এই দুই হাজার উপাদান চিনেছি যেগুলো আমরা ভালো বাল্ব তৈরি করার জন্য ব্যবহার করতে পারব না।”

মনজুর রশীদ বিদ্যুৎ
উন্নয়ন ও সংস্কৃতি কর্মী।