কর্মজীবনটা আমার তার অফিসেই শুরু

তার অফিসের কর্মীরা কাজ করতেন মনের আনন্দে। কর্মজীবনটা আমার তার অফিসেই শুরু। কোনোদিন মনে হয়নি একটা অফিসে কাজ করছি। কোনো শাসন নেই, বাধা নেই। অফিসে আমরা ছিলাম একটা পরিবারের মতো। রানা আশরাফ, এম এস দোহা, ইকবাল হোসেন সানু, সোহেল হায়দার চৌধুরী, শামীম মোহাম্মদ, সিরাজুল ইসলাম, সাইদুজ্জামান রুবেল, খোন্দকার বেলায়েত হোসেন, খোন্দকার জাহাঙ্গীর, তৈয়বের রহমান খান, গোলাম মাহবুব, অহিদুজ্জামান হিরু, ইউসুফ হোসেন, জহিরুল ইসলাম, মো. খায়রুল আলম—এরাই ছিল নিয়মিত কর্মী

কী সম্মোহনী শক্তি ছিল তার মধ্যে, বলতে পারব না। কেউ দেখা করতে এলেন তো তিনি আটকে গেলেন তার সামনে। তিনি কথা বলা শুরু করলেন তো বলেই যাচ্ছেন। সবাই মুগ্ধ শ্রোতা। কথাও শেষ হয় না, কেউ আসন ছেড়ে উঠতেও পারেন না। সবাই যেন সবকিছুই ভুলে যান। বিষয়টা যা-ই হোক। তিনি লেখা শুরু করেছেন তো লিখছেন। অনর্গল লিখে চলেছেন। নিজের সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকার অধিকাংশ পাতাই তিনি একা লিখতেন। কারও সঙ্গে কোনো দিন রাগ করতে দেখিনি। সব সময় হাসিমুখ। নিরহঙ্কার অভিব্যক্তি।

তিনি আমার জেঠাতো ভাই, বাংলাদেশের গেদুচাচা, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, লেখক খোন্দকার মোজাম্মেল হক। ৩০ জুন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়

তার অফিসের কর্মীরা কাজ করতেন মনের আনন্দে। কর্মজীবনটা আমার তার অফিসেই শুরু। কোনোদিন মনে হয়নি একটা অফিসে কাজ করছি। কোনো শাসন নেই, বাধা নেই। অফিসে আমরা ছিলাম একটা পরিবারের মতো। রানা আশরাফ, এম এস দোহা, ইকবাল হোসেন সানু, সোহেল হায়দার চৌধুরী, শামীম মোহাম্মদ, সিরাজুল ইসলাম, সাইদুজ্জামান রুবেল, খোন্দকার বেলায়েত হোসেন, খোন্দকার জাহাঙ্গীর, তৈয়বের রহমান খান, গোলাম মাহবুব, অহিদুজ্জামান হিরু, ইউসুফ হোসেন, জহিরুল ইসলাম, মো. খায়রুল আলম- এরাই ছিল নিয়মিত কর্মী। এ ছাড়া অনেকে কলাম লিখতেন। তাদের মধ্যে আবদুর রহমান, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, হাবিবুর রহমান মিলন, অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমেদ, আবু তাহের, আনিসুল হক, শাবান মাহমুদসহ অনেকে ছিলেন।
অনেক স্মৃতি অনেক কথা লিখতে চাইলেও পারলাম না। কারণ যখনই মনে হয় তিনি নেই। বুক ফেটে কান্না আসে। সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যায়। কিন্তু অপ্রিয় হলেও এটাই সত্য যে, তিনি চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে গত ২৯ জুন ২০২০ ইং। তিনি আমার জেঠাতো ভাই, বাংলাদেশের গেদুচাচা, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, লেখক খোন্দকার মোজাম্মেল হক। ৩০ জুন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।