মানবতা মরেনি : পুলিশের সহায়তায় বাড়ি ফিরলেন পঞ্চানন গায়েন

মানবতা মরেনি, হারিয়ে যায়নি মনুষ্যত্ব। যখন পঞ্চানন গায়েনের ১৯ দিন ধরে গাবতলীতে আটকে পড়ার সংবাদ হয়, বহু মানুষ সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২০) রাতেই পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা থেকে যশোর, তারপর যশোর থেকে পুলিশের গাড়িতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার পূর্ব কাদাকাটি গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও একবার প্রমাণ হলো মানবতা মরেনি; পঞ্চানন গায়েনের সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই ৭২ বছর বয়সী পঞ্চাননের সাহায্যে এগিয়ে আসার কথা জানান।
মতিঝিল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার সন্দীপ সরকার পঞ্চাননকে একটি হোটেলে নিয়ে আসেন। তারপর রাতে এক সবজির ট্রাক যখন সবজি ঢাকায় নামিয়ে ফিরে যাচ্ছিল, তাতে উঠিয়ে দেন তিনি।
সকালে যশোর পৌঁছালে সাতক্ষীরা পুলিশের সহায়তায় বাড়ি ফেরেন পঞ্চানন গায়েন।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান কিছু চিকিৎসা সামগ্রী ও খাবার দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
পুলিশ সুপার জানান, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও শুধু মানবিক কারণে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি সুস্থ আছেন তবে উনাকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

আগের খবর : ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ১৯ দিন ধরে গাবতলীতে ৭২ বছর বয়সী পঞ্চানন গায়েন


করোনা মোকাবিলায় সরকার যখন বার বার আহ্বান জানাচ্ছে সবাইকে ঘরে থাকার, তখন নিজের ঘরে ফিরতে গত ১৯ দিন ধরে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন ৭২ বছরের অশীতিপর পঞ্চানন গায়েন।
সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় এসে এরই মধ্যে হারিয়েছেন যোগাযোগের একমাত্র সম্বল মোবাইল ফোন আর পকেটের টাকা। খাবারের জন্য চেয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষের দানের ওপর। আর যেদিন কিছুই জোটে না সেদিন অনাহার।
জমিজমা সংক্রান্ত মামলার কাজে মার্চের ১৫ তারিখে ঢাকায় আসেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার পূর্ব কাদাকাটি গ্রামের পঞ্চানন। এক সময়ে যিনি ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।
‘হাইকোর্ট এলাকার লোকজন বলল পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। আপনি কাজ শেষ করেই যান,’ বলেন পঞ্চানন।
অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সরকার সারাদেশে করোনা পরিস্থিতির জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তারপরও তিনি মনে করেছিলেন পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।
তবে হাইকোর্ট থেকে যেদিন মোবাইল ফোন হারালেন সেদিন বিপদ যেন আরও বাড়ল। ‘কেমন করে যেন গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে আসি, তারপর থেকে এখানেই আছি,’ বলেন পঞ্চানন।
‘এখানে বাচ্চাদের কিছু লোক খাবার দেয়। আমাকেও দেয়। দিলে খাই, যেদিন দেয় না সেদিন উপোস থাকি।’
‘কোনোদিন ভাত। কোনোদিন ভাত না থাকলে মুড়ি দেয়, তাই খাই’, বলেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে কাদাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপংকর কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা আজকে শুনেছি তিনি ঢাকায় আটকা পড়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি তাকে নিয়ে আসার কিন্তু পারব কিনা জানি না।’
পঞ্চানন গায়েনের ভাগনে বিশ্বনাথ সানা বলেন, ‘খালুর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। উচ্চ রক্তচাপের রোগী। তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা দরকার।’