কুসংস্কার ও অন্ধকার দূর করতে সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। মর্ত্যে এলো ‘মেঘদূত’

মানুষের মনের কুসংস্কার ও অন্ধকার দূর করতে পারে একমাত্র সংস্কৃতি চর্চা। সাহিত্য পাঠ, সঙ্গীত, আবৃত্তি এবং অন্যান্য শিল্পচর্চা মানুষের মনের সুকুমার বৃত্তি প্রস্ফুটিত করে। বিকশিত হয় স্বদেশ প্রেম, আদর্শ ও মূল্যবোধ। এ বোধ জাগ্রত করতে মর্ত্যে এলা ‘মেঘদূত’

গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার রাত ৯টায় একটি ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে অনলাইন ভিত্তিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মেঘদূত’। লাইভ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন স্বনামধন্য নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফাতেমাতুজ জোহরা এবং সেতার শিল্পী রীনাত ফওজিয়া।
সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেছে নয়জন সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই একত্রিত হয় এই নয়জন মানুষ। এরা প্রত্যেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নানা ক্ষেত্রে কাজ করেন। এদের মধ্যে ছয়জনই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা। পাঁচজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা।


এরা হলেন চৌধুরী রাসেদুন্নবী, তাহেরা আফরোজ, সালমা মুক্তা, লুৎফুন্নাহার, যুবাইদা নূর খান। চৌধুরী রাসেদুন্নবী একজন ভাষা গবেষক, তিনি ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তাহেরা আফরোজ একজন লেখক ও আবৃত্তিশিল্পী, তিনি সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। সালমা মুক্তা একজন অনুষ্ঠান উপস্থাপক। বেতারে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন দীর্ঘ সতেরো বছর যাবৎ, তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। লুৎফুন্নাহার একজন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী, বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভি তালিকাভুক্ত শিল্পী। তিনি ইডেন কলেজের অর্থনীতি বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক। যুবাইদা নূর খান একজন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, কুমিল্লা বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের সহকারী অধ্যাপক।


স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তা সেরাজুস সালেকিন একজন লেখক। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত।

ফারাবী আল কাফীও একজন লেখক ও ডাক্তার। তিনি হেড অব মেডিক্যাল সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট, অকোটেক্স গ্রুপ।
অন্য দুজন সঙ্গীতশিল্পী। এরা টিভি এবং মঞ্চে নিয়মিত অনুষ্ঠান করে ভক্ত শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন ইতোমধ্যেই। এরা হলেন তাপস ইকবাল এবং ঊর্মি খান।


করোনা মহামারীতে ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ খোলার যখন হিড়িক পড়ে যায়, নানা লাইভ অনুষ্ঠান শুরু হয় তখন এরা একত্রিত হয়ে কথা বলেন। নিজের ভাবনা এবং ইচ্ছেগুলো নিয়ে কথা বলেন। অনেক ভাবনা চিন্তা করে কিছু নীতিমালা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্য একটাই, শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চা দেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে দেয়া। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন এই নয়জন।

ইতোমধ্যেই মেঘদূত সাড়া ফেলেছে সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের কাছে। কিছু ইভেন্ট নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন এ মুহূর্তে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান। এটি নিয়মিত প্রতি মাসে একটি পর্ব হবে।

ডিসেম্বরের ৪ তারিখে প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা হয়েছে। অন্যান্য ইভেন্টগুলো হলো কবি আড্ডা, নির্দিষ্ট টপিকে লেখা, আবৃত্তি লাইভ আয়োজন, লোকসঙ্গীত উৎসব। এভাবে নানা আয়োজনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক চর্চাকে ছড়িয়ে দেয়াটা মূল লক্ষ্য।


কথা হয়েছিল মেঘদূত পরিচালক পর্ষদ সদস্য তাহেরা আফরোজের সাথে। তিনি বলেন, মানুষের মনের কুসংস্কার ও অন্ধকার দূর করতে পারে একমাত্র সংস্কৃতি চর্চা। সাহিত্য পাঠ, সঙ্গীত, আবৃত্তি এবং অন্যান্য শিল্পচর্চা মানুষের মনের সুকুমার বৃত্তি প্রস্ফুটিত করে। বিকশিত হয় স্বদেশ প্রেম, আদর্শ ও মূল্যবোধ। একজন মানুষের জন্য এটি যেমন জরুরি, তেমনি একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের জন্যও জরুরি।


মেঘদূত পরিচালক পর্ষদের একটি ভিডিও লিংক সংযুক্ত হলো। লিংকে ক্লিক করে মেঘদূত সদস্য হওয়া যাবে। আপনি সদস্য হয়ে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারেন।

ভিডিও লিংক