ওয়াহাব রিয়াজের দুর্দান্ত এক ওভারে সিরিজ ড্র পাকিস্তানের

মোহাম্মদ হাফিজের ঝড়ে বড় সংগ্রহ পাওয়ার পর ম্যাচ দুলছিল দুদিকেই। রান তাড়ায় ইংল্যান্ডকে শুরুতে টম ব্যান্টন আর শেষে মইন আলি ঝড় তুলে দিচ্ছিলেন জেতার আভাস। কিন্তু ওয়াহাব রিয়াজ, শাহীন আফ্রিদিরা শেষটায় এসে দেখান ঝলক। ১৯তম ওভারে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন বাঁহাতি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ।ক্রিস জর্ডানকে ওই ওভারের প্রথম বলে রান আউট আর ৩৩ বলে ৬১ করা মইন আলিকে পঞ্চম বলে ফেরান ফিরতি ক্যাচে। এ ওভারে তিনি দেন মাত্র ৩ রান। ফলে শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার পড়ে ১৭ রান। নিতে পারে ১১ রান। ফলে পাকিস্তান জয় পায় ৫ রানে


ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান জিতেছে ৫ রানে। আগে ব্যাট করে পাকিস্তানের করা ১৯০ রানের জবাবে ইংল্যান্ড থেমে যায় ১৮৫ রানে। বৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচ ভেসে যাওয়ার পর বাকি দুই ম্যাচে একটি করে জিতে সিরিজ সমতায় শেষ করে দুদল।
অথচ এই ম্যাচও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডেরই হতে যাচ্ছে বলে এক সময় স্পষ্ট হয়ে পড়েছিল। কারণ জেতার জন্য হাতে ৪ উইকেট নিয়ে শেষ দুই ওভার থেকে ২০ রান দরকার ছিল স্বাগতিকদের। বেশিরভাগ সময় এই অবস্থা থেকে ব্যাটিং দলেরই জেতার কথা।
কিন্তু ১৯তম ওভারে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন বাঁহাতি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। রান আটকে দেওয়ার পাশাপাশি ক্রিস জর্ডানকে ওই ওভারের প্রথম বলে রান আউট আর ৩৩ বলে ৬১ করা মইন আলিকে পঞ্চম বলে ফেরান ফিরতি ক্যাচে।
১৯১ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অবশ্য উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই আফ্রিদির বলে শূন্য রানে কাটা পড়েন জনি বেয়ারস্টো। ৭ রান করে ইমাদ ওয়াসিমের বলে বিদায় নেন ডেভিড মালান। ছক্কায় শুরু করে তড়িঘড়ি ফিরে যান অধিনায়ক এউইন মরগানও।
এক পাশে আসা-যাওয়ার মাঝেই খেলছিলেন ব্যান্টন। তার ব্যাটেই এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড। ৩১ বলে ৮ চারে ৪৬ রান করে হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। স্যাম বিলিংসকে নিয়ে বাকিটা এগিয়েছেন মইন। বিলিংস ফেরার পর ঝড় তুলে দলকে জেতার কাছে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু ওয়াহাব ঝলকে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠা হয়নি তার।
এর আগে আবারও টস হেরে ব্যাটিং পায় পাকিস্তান। কিন্তু শুরুটা একদম ভালো হয়নি। ওপেনার ফখর জামান আউট হন মাত্র ১ রান করে। অধিনায়ক বাবর আজম থিতু হয়েও টানতে পারেননি ইনিংস। ৩২ রানে ২ উইকেট হারানো দল এরপর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় হায়দার আলি ও হাফিজের ব্যাটে।
তৃতীয় উইকেটে দুজনে মিলে যোগ করেন ১০০ রান। ৩৩ বলে ৫৪ রান করে হায়দার আউট হলেও একা দলকে টানতে থাকেন হাফিজ। ৩৯ পেরোনো অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান আর আউট হননি। ৫২ বলে ৬ ছক্কা আর ৪ বাউন্ডারিতে ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে নিয়ে যান দুশর কাছে। ওই বড় পুঁজি নিয়েই শেষ পর্যন্ত বোলাররা দলকে এনে দিতে পেরেছেন রোমাঞ্চকর জয়। পাকিস্তানের পাঁচ রানের জয়ে সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়। শেষ ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পাশাপাশি ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কারও জিতেছেন মোহাম্মদ হাফিজ।